আমাদের কথা

"গ্রামীণফোন কমিউনিটি ইনফরমেশন সেন্টার" গ্রামীণফোন ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্থাপিত সেন্টার যার মাধ্যমে সারাদেশের সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট, টেলিফোন, ভিডিও কনফারেন্সিং এবং নানা ধরণের অত্যাধুনিক তথ্য সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

জি.এস.এম এসোসিয়েশনের কারিগরী সহায়তায় স্থাপিত জিপিসিআইসি গুলোতে আছে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ওয়েব ক্যাম এবং ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার জন্য এজ্ (EDGE)কানেকটিভিটি।

২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে মাত্র ১৬ টি সি.আই.সি নিয়ে যে পাইলট প্রজেক্টটি শুরু হয়েছিল তা এখন ৪৩৫ উপজেলায় ৫০০'র ও বেশি সি.আই.সি নিয়ে একটি অপারেশনাল ইউনিট। এই উদ্যোগের স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা হল বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সিআইসি স্থাপন করা এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা সব সিআইসি'র প্রসার ও প্রচার এমনভাবে বৃদ্ধি করা যাতে একটি সেন্টার তার আশপাশের ৪ টি গ্রামের তথ্য সেবা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়।

জিপিসিআইসি মডেল এর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিটি সেন্টার স্থানীয় উদ্যোক্তা কর্তৃক স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হবে এবং এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সকল উদ্যোক্তাই সি.আই.সি পরিচালনা করার জন্য ট্রেনিংপ্রাপ্ত। এছাড়াও তারা জিপি সি.আই.সি টিম থেকে সার্বক্ষণিক সাহায্য ও সহায়তা পেয়ে থাকেন। সিআইসি উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধির জন্য গ্রামীণফোন থেকে প্রয়োজন সাপেক্ষে দেওয়া হয় একটি করে পাবলিক ফোন এবং ফ্লেক্সিলোড কানেকশন।

গ্রামীণফোনের এই উদ্যোগ সমাজের প্রতি তার কিছু দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। সমাজের কাছে গ্রামীণফোনের প্রতিশ্রুতি মধ্যে রয়েছে -

  • সারাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে তথ্যসেবা প্রদানের মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা।
  • বঞ্চিত ও অবহেলিত জনসাধারণকে তথ্যমূলক সেবা সম্পর্কে অবহিত করা।
  • স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব তৈরী করা এবং তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা।
  • দারিদ্রতা দূরীকরণ
  • বেকার যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
এই উদ্যোগ সমাজের অধিকাংশটা জুড়ে থাকা দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে গ্রামীণফোনের অকৃত্রিম ইচ্ছার ফসল।

এটি একটি অভিনব ব্যবসায়িক মডেল যা ইউ.এন.ডি.পি ও ওয়াশিংটন পোস্ট'র মত আন্তজার্তিক সংস্থার প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং জি.এস.এম.এ - এর মত আন্তজার্তিক সংস্থার সহায়তা অর্জনে সমর্থ হয়েছে।

জিপিসিআইসি - তে যে ধরণের সেবাসমূহ পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে -
  • ইন্টারনেট সার্ফিং ও ই-মেইল সেবা
  • স্বাস্থ্য ও কৃষি বিষয়ক তথ্য সেবা
  • এলাকা ভিত্তিক প্রাসঙ্গিঁক বিভিন্ন ধরণের তথ্য সেবা
  • কন্ঠ ও ছবির মাধ্যমে চ্যাটিং
  • ভিডিও কনফারেন্সিং
  • ই-ফ্যাক্স
  • ই-গভার্নেন্স সেবা (বিভিন্ন ধরনের জরুরী সরকারী ফর্ম)
  • টেলিমেডিসিন সেবা (শীঘ্রই আসছে)
  • ছোটদের জন্য কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান
  • ফ্লেক্সিলোড, রিংটোন ডাউনলোড
  • কম্পিউটার কম্পোজিং
  • স্ক্যানিং ও প্রিন্টিং
  • বানিজ্যিক মোবাইল ফোন সেবা
  • সিডি রাইটিং
গ্রামীণফোন তাদের এই উদ্যোগকে সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছে। এই উদ্যোগে গ্রামীণফোনের সাথে রোলআউট পার্টনার হিসেবে কাজ করছে গ্রামীণ টেলিকম, সোসাইটি ফর ইকনমিক এন্ড বেসিক এডভান্সমেন্ট (সেবা), কালিকাপুর দরিদ্র কল্যান সংস্থা (কেডিকেএস), সোশিও ইকনমিক ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (সেডা) , ঈগল মাল্টিবিজনেস , কর্মকুটির এবং নোয়াখালী ওয়েব।

অন্যান্য ক্ষেত্রে পার্টনারদের মধ্যে রয়েছে ইনভোগ, নোয়াখালী ওয়েব এবং এনোভাটেক। এছাড়াও গ্রামীণফোন এই উদ্যোগকে সফল করতে জি.এস.এম.এ ও ক্যাটালিস্ট এর মত আন্তজার্তিক সংস্থার সাথে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবনে সি.আই.সি'র মাধ্যমে কিভাবে পরিবর্তন আনা যায় এ ব্যাপারে ইউ.এন সংস্থা যেমন ইউএনডিপি, ইউনিসেফ এবং ইউনেস্কো সাথেও গ্রামীণফোন নিয়মিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করছে।

গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে এটি একটি কার্যকরী ও সাহসী পদক্ষেপ; কিন্তু গ্রামীণফোনের একার পক্ষে এটি সফল করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সরকারী ও বেসরকারী পর্যায় থেকে সহায়তা এবং দেশের সকল নাগরিকের সহযোগিতা ।

আপনার এলাকায় নতুন সিআইসি প্রতিষ্ঠার জন্য সিআইসি উদ্যোক্তার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য, প্রস্তাবপত্র ও বিস্তারিত ডাউনলোড করুন।